Category Archives: West

Raga applications in 19th century Prabandha and Darbari music in Kolkata

Told by Dr. Pradip Ghosh
Obtained by Prof. Sanjoy Bandopadhyay and Suranjita Paul
Date 11 July, 2016
Place SAP-DRS Lab, Sangeet Bhavan, Rabindra Bharati University
On Dr. Pradip Ghosh Dr. Pradip Ghosh is an erudite music scholar and renowned musicologist.
Key-words Robi Thakur, late 17thcentury, early 18th century, Carnatic, Karnatic, Bhasha Ragam, Raganga Ragam, Wajed Ali Shah, gharana, National Library, Dwijendra Nath Thakur, Pathuriaghata, Thakurbari, Gauripur, Burdwan Rajbari, 1856, Vasat Khan, Veen, sarod, sitar, Chhatubabu, Atul Chand Mitra, Banga Aikyatan, Sourindra Mohun Tagore, Shobhabazar, Deb bari, Enayet Khan, Chhotebibi, instrument, vocal
Language Bengali

Dr. Pradip Ghosh speaks:

 

Wajid Ali Shah and Kolkata

Told by Goutam Ghosh
Obtained by Sanjoy Bandopadhyay
Date 17 December 2014
Place Sangeet Bhavan, B.T. Road Campus, Rabindra Bharati University, 56A, B.T. Road, Kolkata 700050
On Goutam Ghosh Faculty member of the Department of Instrumental Music, Rabindra Bharati University, Sarod player [disciple of Ustd. Dhyanesh Khan], Music Director, Music Critic, Composer
Key-words Wajid Ali Shah, Oudh, Ayoddha, thumri, biriyani, instrumental music, chamber music, tabla, Khidirpur, Metia Buruj

আমি যে ঘটনাটা বলব, তখন ব্রিটিশ রাজত্ব এখানে মোটামুটি কায়েম করে বসেছে, তখন তিনটে কালচার পাশাপাশি চলছে, এক হিন্দু ট্রাডিশন, মুসলিম কালচার এবং পাশাপাশি ব্রিটিশ কালচার. ব্রিটিশরা ব্যস্ত ছিল যুদ্ধ ইত্যাদি, ভারতবর্ষ কিভাবে পুরোটা অধিকার করবে এই ভাবনা-চিন্তা নিয়ে. এমত সময়, ১৮৫০ এরকম সময়, তখন ব্রিটিশরা মোটামুটি স্থিতিশীল ভারতবর্ষে, তখন তারা আয়ুধ বা অযোধ্যা অধিকার করল. আয়ুধের তত্কালীন নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ. ওয়াজেদ আলী শাহর থেকে

Wajed Ali Shah
Wajed Ali Shah

আয়ুধের তখত কেড়ে নেওয়া হল এবং তাকে নির্বাসিত করা হল কলকাতায়. কলকাতা রাখা ব্রিটিশদের মোটামুটি কর্মস্থান, এখান থেকেই তারা সারা ভারতবর্ষ নিয়ন্ত্রণ করছে. এবং এমন একটি যায়গায় তাঁকে রাখা হল, যেটা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, খিদিরপুরের কাছাকাছি, জায়গাটার নাম মেটিয়াবুরুজ. এ নামকরণের কারণ হচ্ছে যে কেল্লাটা বানান হয়েছিল সেটি মাটির তৈরি. সেখানে রেখে নবাবকে দেওয়া হল বারো-লক্ষ টাকার পেনশন. বারো-লক্ষ টাকার পেনশন এ তাঁর যে বিলাস-বৈভব কমিয়ে ওয়াজেদ আলী হিসেব করলেন আর ঠিক করলেন যে এই টাকার বৃহত্তম অংশটি তাঁর প্রিয়তম বিষয় সংগীতের জন্য থাকবে. এছাড়া সেই কেয়ারী করা ফুল-ঝাড়, পশু-পাখি তার জানে তার নিজস্ব চিড়িয়াখানা ছিল যেটাকে এখন আলীপুর চিড়িয়াখানা বলা হয়. এ সম্পর্কে একটি জনশ্রুতি আছে, বিখ্যাত জনশ্রুতি. সেসময় উনি মেটিয়াবুরুজ থেকে ওঁর ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় আসতেন, সেসময় পাশাপাশি ওই ঘোড়া-গাড়ীর পেছনে পেছনে ওঁর বিশালবপু বাঙালী সেক্রেটারি দৌড়তেন. আর ওয়াজেদ আলী শাহ মুখ বাড়িয়ে বলতেন, “বাবু, বৃটিশের ই আইন তাতে আমি তোমাকে আমার এই গাড়ীতে তুলতে পারিনা, কিন্তু তুমি আমার সন্ধ্যেবেলার আসরে এস. এই আসরটা কি, এই আসরটা হচ্ছে সংগীতের আসর. উনি এক বিচিত্র লোক. যখন উনি অযোদ্ধা থেকে আসেন.. ওঁর যে রাজকীয় কারাভান ইত্যাদি সেগুলো স্থলপথে এসেছিল, এতে দীর্ঘদিন সময় লাগে. উনি যাত্রাপথে গান বানালেন, “হম ছোড় চলে লক্ষ্ণৌ নগরী…” একটি বিখ্যাত ঠুমরী. নবাব যে বিশিষ্ট শৈলীর প্রবর্তন করেছিলেন তাকে আমরা বোল–বাঁট বা বন্দিশ-কী-ঠুমরী বলি. “হম ছোড় চলে লক্ষ্ণৌ নগরী…” তত্কালীন বাঙ্গালীমহলে খুব জনপ্রিয় হয়েছিল এবং বহু পরে রবীন্দ্রনথের মনেও সুরটি গেঁথে গিয়েছিল. সেই সুরে কথা রূপান্তর করে উনি গান রচনা করেছিলেন. এইযে উনি অযোদ্ধা থেকে এখানে এলেন, যেমন বললাম এক বিচিত্রমনা মানুষ, আর্ট ও কালচারের এর প্রতি এত অনুরাগ, এর প্রত্যেক

Metibruz
Metiabruz

কাটাই উনি উপভোগ করতেন এবং সেটা ছড়াবার চেষ্টা করতেন. খাবার-দাবার দিকেও তাঁর নজর, কেমন ভাবে বলি, যে বিরিয়ানী আমরা খাই সেটা ওঁর রেসিপি. বিরিয়ানি বহুদিন ধরে শাহজাহান এর আমল থেকেই চলে আসছে. বিরিয়ানি রান্নার খরচা কম করতে উনি বিরিয়ানী তে আলু যোগ করলেন. টাই আলু-যোগে বিরিয়ানি ওয়াজেদ আলী শাহর বানান. আপনারা অনেকেই জানেন যে এই আলু শাহজাহান খেয়ে যেতে পারেননি.

আলাউদ্দিন খাঁসাহেব তাঁর প্রথম গুরু আহমেদ আলী খাঁকে উনি এই ওয়াজেদ আলী শাহর দরবার থেকেই পেয়েছিলেন. উনি তিনটে জিনিস করতেন, গান, গানটা খুব কালোয়াতি গান নয়, বিনোদনের গান, উনি ঠুমরী পছন্দ করতেন এবং নিজে রচয়িতা ছিলেন. সম্ভবত সর্বাধিক আগ্রহ ওনার যন্ত্রসঙ্গীতে ছিল, ওঁর আর্থিক অসুবিধে সত্বেও বহু যন্ত্রসঙ্গীত বাদক এখান থকে মাসোহারা পেতেন.

এর মধ্যে ওঁর মা ও জামাইবাবু লন্ডনে ব্রিটিশদের সাথে মামলাতে প্রায় জিতে নিয়েছেন যে আয়ুধের সিংহাসন ওয়াজেদ আলী শাহ কে ফিরিয়ে দিতে হবে এরকম একটা নির্ণয় যখন প্রিভি কাউন্সিল এ হচ্ছে তখন এক অদ্ভুত ব্যাপার হল. ওয়াজেদ আলী বাংলার সংস্কৃতির সাথে এমন জড়িয়ে গেলেন যে উনি ওঁর সম্পত্তির যে প্রাপ্য অধিকার তা অস্বীকার করলেন, উনি বললেন, “আমি এখানেই থাকব”. এই নির্ণয়টা বাংলার মাটির কল্যাণ এর জন্যেই হল. উনি বাংলার মানুষদের সঙ্গে মিশে, বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে এতটাই জুড়ে গেলেন যে আর অযোদ্ধায় ফিরে যেতে চাইলেননা, উনি বললেন যে উনি এখানেই সুখী আছেন. এতে বাঙালীর লাভ হলো কি প্রথম যে আসরের প্রবর্তন হল, বিভিন্ন ধনী লোকেদের বাড়ীতে আসার যেমন বিদেশে চেম্বার- মিউজিক হত, যা ছোট পরিসরে হত তার ভারতে প্রবর্তন হল. যেতে রাজদরবারে হত তা মিনি-দরবার যেখানে ছোট ঘরে গান-বাজনার আয়োজন শুরু হল. ওঁর জন্যে বিভিন্ন ঘরের তবলা-বাদক এখানে এলেন. এই নানা বাজনার পরম্পরা এখনও বাংলায় চলছে.